| |

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প-মাসিক ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা: যোগ্যতা, সুবিধা ও আবেদন পদ্ধতি

Annapurna Bhandar

জুন ২৭, ২০২৬|Coresignal


তৃণমূল সরকারের অবসানের পর রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের সহায়তার লক্ষ্যে এক নতুন জনমুখী প্রকল্প, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্প, ঘোষণা করেছে। পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিমার্জিত রূপ হিসাবে এটি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা ১৫০০ পরিবর্তে মাসিক ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন। এই প্রকল্পের যোগ্যতা, প্রাপ্ত সুবিধা এবং ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে নিচে উপস্থাপন করা হলো।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উদ্দেশ্য (Objective of the Annapurna Bhandar Scheme):

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা। এই সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিশুদের শিক্ষা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যোগ্যতার মানদণ্ড (Eligibility Criteria) :

রাজ্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যোগ্যতার শর্তাবলী নিম্নরূপ:

  • বয়স: আবেদনকারী মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • কর্মসংস্থান: আবেদনকারী মহিলাকে কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী অথবা সরকারি পেনশনভোগী হওয়া চলবে না।
  • আয়কর: আবেদনকারী মহিলাকে আয়কর প্রদানকারী হওয়া অনুচিত।
  • পারিবারিক আর্থিক অবস্থা: প্রকল্পটি মূলত সেইসব পরিবারের মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রদত্ত সুবিধা (Benefits Provided under Annapurna Bhandar) :

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তুলনায় বর্ধিত সহায়তা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত মহিলারা মাসিক ১,৭০০ টাকা এবং অন্যান্য শ্রেণির মহিলারা মাসিক ১,৫০০ টাকা পেতেন। নতুন প্রকল্পে এই সহায়তা যথাক্রমে ১,৩০০ টাকা ও ১,৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সরাসরি ৩,০০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই আর্থিক অনুদান সরাসরি সুবিধাভোগীদের আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process for Annapurna Bhandar) :

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া ১লা জুন, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। আবেদনকারীরা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদন জমা দিতে পারবেন। অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প ১লা জুন থেকে আগামী তিন মাস ধরে চলবে

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি (Online Application Method):

  1. অফিসিয়াল পোর্টাল: রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। যোগ্য আবেদনকারীরা এই পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন।
  2. প্রয়োজনীয় নথি: আবেদন করার পূর্বে আধার কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণপত্র (যেমন ভোটার আইডি বা রেশন কার্ড) এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রস্তুত রাখা আবশ্যক।
  3. সতর্কতা: অনলাইনে আবেদন করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি ঘোষণা এবং যাচাইকৃত পোর্টাল লিঙ্ক প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অননুমোদিত বা ভুয়া রেজিস্ট্রেশন লিঙ্কে ক্লিক করা বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধুমাত্র সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করা উচিত।

অফলাইন আবেদন পদ্ধতি (Offline Application Method):

  1. আবেদনপত্র সংগ্রহ: আবেদনকারীরা তাঁদের নিকটস্থ দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, ব্লক অফিস, পৌরসভা অফিস অথবা সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য কেন্দ্র থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
  2. আবেদনপত্র পূরণ: সংগৃহীত আবেদনপত্রটি নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
  3. নথি সংযুক্তকরণ: পূরণকৃত আবেদনপত্রের সাথে আধার কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণপত্র, রেশন এবং প্যান কার্ড সংযুক্ত করতে হবে।
  4. জমা দান: পূরণকৃত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিগুলি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের স্থানান্তর (Transfer of Lakshmir Bhandar Beneficiaries) :

যে সকল মহিলা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগী, তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হবে। তবে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ২০২৬ প্রক্রিয়ার সময় মৃত, স্থানান্তরিত, বাতিল অথবা অনুপস্থিত ভোটার হিসাবে চিহ্নিত সুবিধাভোগীদের এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হবে। যারা SIR ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন অথবা নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন-এর অধীনে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্পের অধীনে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপডেটের প্রক্রিয়া (Aadhaar-Linked Bank Account Update Process) :

অনেক সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে, ভুল তথ্য থাকতে পারে অথবা তাঁরা ব্যাংক পরিবর্তন করতে চাইতে পারেন। সেক্ষেত্রে আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপডেট করা জরুরি। এই প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব:

  1. NPCI ভারত আধার সিডিং এনাবলার (BASE) পোর্টাল: এই পোর্টালে প্রবেশ করে আধার নম্বর এবং OTP যাচাইকরণের মাধ্যমে আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা জানা যাবে।
  2. অ্যাকাউন্ট আপডেট: অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করতে চাইলে ‘আধার সিডিং’ বা ‘ডি-সিডিং’ বিকল্পটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর নতুন ব্যাংকের নাম ও অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রদান করে OTP যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।
  3. পুনরায় যাচাই: আপডেট সম্পন্ন হওয়ার পর, NPCI পোর্টাল অথবা UIDAI-এর ব্যাংক সিডিং স্ট্যাটাস সুবিধা ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের অবস্থা পুনরায় যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কেবল আর্থিক নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সামগ্রিক উন্নতিতেও সহায়ক হবে। রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে। কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা ভুয়া তথ্যে প্রভাবিত না হয়ে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করার জন্য সকল আবেদনকারীকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্থানীয় সরকারি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র (References):

ইকোনমিক টাইমস

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *